ঢাকা, ০২ এপ্রিল ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর খিলক্ষেত, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে কোনো জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত সমস্যা উত্থিত হয়নি।
এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আজকের থানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন পত্রিকা কি বলে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখছি না।
দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রথমে সরকার ছিল না, তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। এখন সবাই একত্রে চেষ্টা করছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে করা হত্যা মামলায় অনেক নিরীহ মানুষের নামেও মামলা দেওয়া হচ্ছে যাদের নাম এজাহারে নেইÑ সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি সত্য। এমনও অনেকে আছেন যাদের এজাহারে নাম আছে কিন্তু জড়িত নন। এমন অনেকেই ছিল যারা তখন দেশের বাইরে ছিলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা প্রপার তদন্ত করছি এবং নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হবে না।শুধু থানার তদন্ত নয় এটার জন্য আলাদা কমিটিও করা হয়েছে। যেন কোনোভাবেই নিরীহ লোকজন সাজা না পায়। সেই সঙ্গে কোনো দুস্কৃতিকারীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার পতনের পর বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থী ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) সিএ প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত সেই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থী ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে প্রেস উইং বলছে, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
সিএ প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশ করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উস্কানিমূলক নিবন্ধের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বছর ধরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি করেছে সেটাকে এবং পরিস্থিতির জটিলতাকে স্বীকার করা উচিত।
প্রেস উইং আরও বলছে, যদিও নিবন্ধটি ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, তবে এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের জন্য বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অথচ নিবন্ধে এর উল্টোটা বলা হয়েছে।
Leave a Reply