শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

রাজ্যের আবেগকে গুরুত্ব দিন : প্রধানমন্ত্রীকে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯
  • ৪০০ সময় দেখুন

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না দেবার ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি রাজ্যের প্রস্তাবে অনুমোদন দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দু’জনকে পাঠানো চিঠিতে বলেছেন, বাংলা ও বাঙালির আবেগের কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে ‘বাংলা’নামে অনুমোদন দেওয়া হোক। বাংলা নাম নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন জরুরি। সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি টেকনিক্যাল। কেন্দ্রকেই সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজ্যসভায় দলহীন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দিচ্ছে না।

এরপর বুধবার রাজ্য বিধানসভাতে রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ গড়িমসির অভিযোগ তুলে একযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিএম। বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলার আবেগকে কেন্দ্র গুরুত্ব দিচ্ছে না। এবার নিয়ে চারবার কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ করেছে। ১৯৯৯ সালে প্রথম বামফ্রন্ট আমলে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ফের রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে তিন ভাষাতেই পশ্চিমবঙ্গ করার কথা বলা হয়। সেই মতো বিধানসভার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু কেন্দ্র সেই প্রস্তাব ফেরত পাঠায়। এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবরে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ৩টি ভাষায় যথাক্রমে বঙ্গ, বেঙ্গল ও বঙ্গাল করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে । কিন্তু তা ফেরত পাঠিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, পৃথক পৃথক নাম নয়, ৩টি ভাষাতেই এক নাম হতে হবে । এরপরই রাজ্য সরকার রাজ্যের নাম ৩ ভাষাতেই ‘বাংলা’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধানসভায় সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে গৃহীতও হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেই পরিবর্তন কার্যকর করার জন্য তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং নাম পরিবর্তনে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের জন্য সংসদের দুই কক্ষে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে হয়। সেই বিল ভোটাধিক্যে গৃহীত হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সেই অনুমোদন হওয়ার পরই রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামের ঘোষণা করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর